করোনা রুখতে বন্ধ কালিয়াগঞ্জ বয়রা কালী মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পয়লা বৈশাখের পূজা

করোনার ধাক্কায় এবারে ভক্তদের জন্য বন্ধ হল কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বয়রা কালী মন্দিরের দুয়ার। লকডাউনকে মান্যতা দিয়ে মায়ের মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়।
লকডাউন খোলা না হলে একইভাবে মন্দিরের দুয়ার বন্ধ থাকবে আমজনতার জন্য। পুজো দেওয়া বন্ধ হলেও দূর থেকে মায়ের প্রতিমা দর্শন করা যাবে। কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বয়রা কালী মন্দিরের দুয়ার এই প্রথম বন্ধ হল জনতার জন্য। এর আগে বিভিন্ন সময় নানা বিপর্যয় এলেও মন্দিরের দরজা বন্ধ হয়নি ভক্তদের জন্য।
কিন্তু এবারে চিনা ভাইরাস করোনা এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, যা সামাল দিতে ভারতবর্ষের বড়বড় মন্দিরের দুয়ার বন্ধ করতে হচ্ছে। সেই তালিকায় এবারে সংযোজন ঘটল কালিয়াগঞ্জের মা বয়রা কালী মন্দিরের।
এরপর পরিস্থিতি অনুসারে দেশ ও রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখে প্রয়োজনে বাড়তে পারে মন্দিরের দরজা বন্ধের দিনক্ষণ। এদিকে করোনার জেরে কালিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মা বয়রা কালী মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরবাসী।
করোনা আটকাতে জমায়েত এড়ানো অত্যন্ত জরুরী। স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল, থিয়েটার, হাট-বাজার, খেলাধূলা বন্ধ সহ সরকারি দফতরে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এই অবস্থায় কালিয়াগঞ্জে মায়ের মন্দির কয়েকদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিয়েছে ।
কালিয়াগঞ্জবাসীর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে মা বয়রা কালী মন্দির কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিদ্যুৎ বিকাশ ভদ্র বলেন, মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে পরিস্থিতিকে মান্যতা দিয়ে। সরকারিভাবে নির্দেশ না এলেও জমায়েত এড়াতে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর যে আবেদন সমাজের কাছে, সেই আবেদনেই সারা দিয়ে মূলত মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এই বন্ধ মানে, মায়ের চরণে ভক্তদের পুজো দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ। মন্দিরের ভেতরে মায়ের নিত্যসেবার কাজ প্রথা মাফিক চালু থাকবে। ভক্তরা এসে পুজো দিতে না পারলেও মন্দিরের কাঁচের দরজার ওপার থেকে মাতৃ দর্শন করতে পারবেন।
করোনার জেরে কালিয়াগঞ্জের মা বয়রা কালী মন্দিরের দরজা ভক্তদের জন্য ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বিশেষ কোন সমস্যা না হলেও চৈত্র মাসের ২৩ তারিখ মায়ের মন্দিরে অষ্টধাতু মূর্তি প্রতিষ্ঠা তথা বাৎসরিক মহাপূজা ঘিরে উৎসব এবার অনিশ্চিত।
সেই সঙ্গে অনিশ্চিত ১৪ই এপ্রিল সকালে পয়লা বৈশাখের মহাপুজোও। প্রতিদিন কালিয়াগঞ্জের মা বয়রা কালী মন্দিরে স্থানীয় ও বহিরাগত মিলিয়ে শতশত মানুষের আগমন ঘটে পুজো দেওয়ার জন্য। ২৩শে চৈত্র অর্থাৎ ৬ এপ্রিল অষ্টধাতু মূর্তি প্রতিষ্ঠার বাৎসরিক মহাপুজোর দিন হাজার হাজার মানুষের আগমন ও জমায়েত হয় মা বয়রা মন্দির চত্বরে।
পয়লা বৈশাখের সকালে পুজো দিতে লম্বা লাইন পড়ে। করোনা সামাল দিতে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ফলে অষ্টধাতু মূর্তি প্রতিষ্ঠার মহাপূজা ও পয়লা বৈশাখের পুজো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎবাবু জানান, “পরিস্থিতি মেনে সকলকে চলতে হবে। ৩১ মার্চের পর সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। আশা করছি, জনতা কারফিউ-এর সফলতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। যদি সরকারি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে মন্দিরে উৎসব হবে। নাহলে পরিস্থিতি মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Post a Comment

0 Comments