করোনায় লাটে উঠেছে পড়াশোনা। চিন্তায় দিন কাটছে গৃহশিক্ষকদের।

করোনায় লাটে উঠেছে পড়াশোনা। চিন্তায় দিন কাটছে গৃহশিক্ষকদের। কারণ মাসের মাইনেই অনেকের সংসার চালানোর ভরসা। করোনা ভাইরাসের জেরে কতদিন লকডাউন পরিস্থিতি কতদিন চলবে কেউ জানে না। 
কি পরিস্থিতি হতে চলেছে সমগ্রি দেশের তাও অজানা। তাই তাদের মাথায় হাত। কবে শুরু হবে পড়াশোনা, কবে শুরু হবে কোচিং সে সব চিন্তা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে গৃহশিক্ষকদের।
সাম্প্রতিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমনে বিপর্যস্ত দেশ থেকে বিদেশের মানুষ ও অর্থনীতি। প্রভাব পড়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ওপর। প্রান্তিক থেকে মধ্যবিত্ত হয়ে বিত্তশালী প্রত্যেকেই সমস্যায় জেরবার। কিন্তু গৃহশিক্ষকদের অবস্থা অনেকটা 'না ঘরকা না ঘটকার মতো'। খারাপ শুনতে লাগলেও বাস্তব এটাই। শিক্ষক হয়েও তাদের এই পেশার কোনও স্থায়িত্ব নেই। 
যে কোনও মুহূর্তে তা হাতবদল হয়ে যেতে পারে। তার মাঝে এই করোনা সমস্যা। বাড়িতে বসে শুধুই বাড়ছে চিন্তা। নিজের তৈরি নোটস থেকে স্পেস্যাল টিপসের খাতা সবকিছু দেখলে অনেকের চিন্তা দ্বিগুন হচ্ছে।
রাজ্যের কয়েক লক্ষ গৃহশিক্ষক বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা কোথাও কোথাও ছোট ছোট ব্যাচ করে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। কিন্ত বর্তমানে লক ডাউনের কারনে তারা পড়ানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা দূর করতে ও সরকারি নিয়মের মর্যাদা দিতে তারা দায়িত্বশীল সুনাগরিকের ভূমিকাই পালন করছেন। 
কিন্ত এর ফলে তাদের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত। তাদের উপার্জনের ওপরেই নির্ভর করে তাদের পারিবারিক জীবন ধারন, বৃদ্ধ অশক্ত বাবা মায়ের চিকিত্‍সা, সন্তানের শিক্ষা ও সামাজিকতা। তাই লক ডাউন পরিস্থিতিতে তাদের উপার্জন সংকটে পড়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক গৃহশিক্ষক আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন।
কৌশিক ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে গৃহ শিক্ষকতা করেই সংসার চালান। তিনি জানালেন , 'কবে এই পরিস্থিতি কাটবে জানি না। তারপরের পরিস্থিতি কি হিবে সেটাও জানি না। মাসের মাইনেটাই তো আমাদের ভরসা। কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।' 
অঙ্কের শিক্ষক স্বরূপ শেঠ বলছেন , 'এখন কিছুদিন রেস্ট পাচ্ছি বটে। কিন্তু বেশি রেস্ট ভালো নয়। সেটাও ভাবতে হচ্ছে। কখন কার কাছে স্টুডেন্ট হাত বদল হয়ে যায় বলা যায় না। চিন্তা তো থাকছেই।' তহসিন রেজার হাওড়ার টিকিয়াপারা অঞ্চলে নিজস্ব বড় কোচিং সেন্টার। টি.আর ক্লাসের নোটস অব্যর্থ ইংলিশ মিডিয়ামের পড়ুয়াদের কাছে। তিনিও চিন্তিত। 
জানাচ্ছেন , 'আমাদের তো এটাই উপায়। আমাদের এই রোজগারের উপরেই সংসার চলে। যারা চাকরি করে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছে তারা তো স্যালারি পেয়েই যাবে। না কাজ করলেও সরকার নির্দেশ দিয়েছে সমস্ত বেসরকারি সংস্থাকে যেন কর্মীদের মাইনে কেটে না নেওয়া হয়। আমরা তো সেই দলে পরি না। কি হবে কবে সমস্ত স্বাভাবিক হবে সেই আশাতেই বসে আছি।'

Post a Comment

0 Comments